• ১২ কার্তিক ১৪৩৩, সোমবার ০২ নভেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bengali Horror Story

নিবন্ধ

তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(অন্তিম পর্ব)

দ্বিতীয় পর্বের পরঃসৌভিক, কিছু দরকার? স্নেহা, না সেরকম কিছু না, তোমার আর সায়নীর মধ্যে সব ঠিক আছে? সৌভিক, কেন বলোতো? স্নেহা, শেষ দুদিন দেখলাম সায়নী তোমায় খুব বাজে ভাবে এড়িয়ে চলছে। সৌভিক এবার নড়েচড়ে বসলো, স্নেহাও লক্ষ্য করেছে মানে এটা সৌভিকের মনের ভুল মোটেও নয় আর সায়নীর কি হয়েছে সেটা স্নেহার থেকে ভালো কেও বলতেও পারবেনা সুতরাং যখন সুযোগ নিজে হেঁটে এসেছে তখন সেটা কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ।সৌভিক, হ্যাঁ, সেটা ওই করছে, কিন্তু কেন করছে তার কোনো সদুত্তর আমার কাছে নেই, তোমার কাছে যদিও থাকে তবে তুমি বলতে পারো, আমি চেষ্টা করে দেখবো যদিও কিছু করতে পারি তো। স্নেহা, কি হয়েছে সেটা আমিও ঠিক জানিনা তবে তোমায় এটুকু বলতে পারি ওর মাথায় কিছু একটা চলছে আর আমাদের সাথে কিছু অদ্ভুত ঘটনাও ঘটছে, তোমার সাহায্য লাগবে। সৌভিক, কিরকম সাহায্য লাগবে? আর কি ঘটছে সেটা বললে ভালো হতো। স্নেহা, সব জানার দরকার নেই, শুধু তুমি আজ রাতের তৈরী থেকো। আমি যাকে সন্দেহ করছি সেই যদিও এসবের পিছনে থেকে থাকে তবে তাকে আজকেই আমরা হাতেনাতে ধরবো। এই বলে স্নেহা সৌভিকের কেবিন থেকে বাইরে বেরোয়, আজকেও রাহুল হন্তদন্ত হয়ে কোথায় যেন একটা বেরিয়ে গেলো।তখন সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, সৌভিকের ভাড়া করে দেওয়া ট্যাক্সিটা এসে থামলো সায়নীদের এপার্টমেন্টটার সামনে।ট্যাক্সির ডানদিকের দরজাটা খুলে প্রথমে স্নেহা নামলো, তারপর সায়নী নামতে গেলো,কিন্তু সায়নী দেখলো আশেপাশের পরিবেশটা কেমন যেন আরো অন্ধকার হয়ে এসেছে। ড্রাইভার সায়নীকে বললো, ম্যাম আপনি ঈশানের সাথে এরকম কেন করলেন? সায়নী ভয় পেলো ড্রাইভারের এই আকস্মিক প্রশ্নের সামনে, সায়নী দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে এপার্টমেন্টর দিকে পা বাড়ালো কোনোদিকে না তাকিয়ে, কিন্তু আজ ঈশান যেন ওর পিছু ছাড়ছেনা, সায়নী যেখানে যেখানে যাচ্ছে সেখানে সেখানে আশেপাশের লোকজন ওর দিকে তাকিয়ে ওকে একই প্রশ্ন করছে, তুমি এটা ঈশানের সাথে কেন করলে? প্রথমে সিকিউরিটি গার্ড, তারপর পাশের ফ্ল্যাটের বৃদ্ধা, মাঠে খেলতে থাকা বাচ্চারা, আর বহুদূরে দাঁড়িয়ে ঈশান ওই একই হাসি নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে, ওর চোখে মুখে রক্ত লেগে, কি বীভৎস লাগছে ওকে। সায়নী এবার আর হাঁটলো না, ওই সোজাসুজি দৌড় দিলো, একের পর এক সিঁড়ি বেয়ে ওই উপরে উঠে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো কিন্তু ওর কাছে চাবি ছিলোনা, পাশে স্নেহাও নেই, ওই কোথায় গেলো?সিঁড়ি দিয়ে কেও একজন উপরে উঠে আসছে, পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে শরীরটাও স্পষ্ট হচ্ছে। একি এটা যে ঈশান, ওর দিকেই এগিয়ে আসছে, সায়নী আরো জোরে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো, ভয়ে আর্তনাদ করে উঠলো কিন্তু এই দুনিয়ায় যেন কেও নেই ওর আর্তনাদ শোনার মতো, কেও যেন নেই ওকে বাঁচানোর মতো। ঈশান হাঁটতে পারছেনা, ওর পা দুটো ভাঙ্গা আর একটা হাত নেই এখন দৃশ্যমান। সে এসে সায়নীর সামনে দাঁড়ালো আর মুখের ওই সরল হাসিটা এখন আর সরল লাগছেনা বরং ভয়ানক পৈশাচিক লাগছে। ঘরঘরে গলায় ঈশান বললো, সায়নী, কেমন আছো? শুনলাম তুমি নাকি প্রথম হয়েছো? সায়নী কাঁদতে কাঁদতে বললো, সরি ঈশান, আমি ভুল করেছি, প্লিজ আমায় ক্ষমা করো প্লিজ। ঈশান এবার আরো বিকৃত হাসি হাসলো, সরি? মনে আছে সেইদিনের কথা? ঠিক কিভাবে তুমি আমায় কিছু না করেও আমার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল? কিভাবে একটা মধ্যবিত্ত বাড়ির বড়ো ছেলেকে তুমি শেষ করে দিয়েছিলে? তোমার বাবার তো অঢেল সম্পত্তি ছিল তোমার কি সত্যিই কিছু ক্ষতি হতো সায়নী? হতোনা, কিন্তু আমার হয়েছে, আমার পর আমার ভাইকে দেখার কেও ছিলোনা, মা অসুস্থ এখনো অপেক্ষা করে আমার ফেরার। তোমায় আমি ছাড়বোনা সায়নী, এভাবেই তুমিও শেষ হবে আর তোমার ওই অহংকারী বাবার কোল শূন্য হবে তবেই আমার প্রতিশোধ পূরণ হবে। সায়নী আরো জোরে চিৎকার করে উঠলো, তারপর বুঝলো ওকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে স্নেহা, ওকে শান্ত করার চেষ্টা করছে আর সামনে দাঁড়িয়ে রাহুল।সায়নী যখন ওদের দেখলো তখন আরো কান্নায় ভেঙে পড়লো, রাহুল ও আমায় শেষ করে দেবে বলেছে প্লিজ বাঁচা আমায়। সায়নী রাহুলের পায়ে পরে কাকুতি মিনতি করতে শুরু করে দিলো।সায়নীর এই অবস্থা দেখে রাহুল ওকে ধরে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে বললো, ঘরে চল আমি আছি, আমি ওকে বুঝিয়ে বলবো ও এলে, তুই চিন্তা করিসনা। স্নেহা দরজা খুললো তারপর ওরা দুজনে সায়নীকে নিয়ে গিয়ে ঘরে শোয়ালো। কিছুক্ষণ দুজনেই সায়নীর পাশে বসে ওকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলো, সায়নী ঘুমাতে রাহুল ডাইনিংএ এসে বসলো আর সামনের চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসলো স্নেহা।রাহুল, আমার মনে হয় এবার আমার যাওয়া উচিত, সৃজা অপেক্ষা করছে হয়তো । স্নেহা, না রাহুলদা, তোমায় তো এখানে থাকতেই হবে।রাহুল স্নেহার দিকে একবার তাকায়, চোখে প্রশ্ন দৃশ্যমান।স্নেহা, থাকতে হবে তার কারণ এতক্ষন আমি ভাবছিলাম এই গল্প ঈশান আর সায়নীর প্রেমের কিন্তু ভুল ছিলাম, আসলে এই গল্পের মুখ্য চরিত্র তো তুমি, ওরাতো ব্যাস দুটো পার্শ্ব চরিত্র। তাই নয় কি?স্তম্ভিত রাহুল স্নেহার দিকে তাকিয়ে বললো, কি বলতে চাও তুমি? স্নেহা কোনো কথার উত্তর না দিয়ে নিজের ফোনটা বের করে একটা ছবি দেখিয়েছো রাহুলকে প্রশ্ন করে, এটাই তোমার ঈশান তাই না? রাহুল এবার আরো অবাক হয়,স্নেহা রাহুলকে বলে, কি রাহুলদা তুমি কি ভেবেছিলে, খেলা খেলতে শুধুই তুমি পারো? আমি পারিনা? আমি আগেই সৌভিককে পাঠিয়েছিলাম তোমার পিছনে। সন্দেহ আমার হয়েছিল তারও দুদিন আগে যখন আমি নিজে তোমায় ওই পাগলাগারদে ঢুকতে দেখেছিলাম, তখন সন্দেহ পুরো তৈরী হয়নি কিন্তু পরে হয়েছে, পরে হয়েছে এটা ভেবে যে যেদিন থেকে তুমি এসেছো তারপর থেকেই কেন ঈশানের আত্মা ওকে তাড়া করছে? আত্মার প্রতিশোধের ব্যাপার হলে তো সে অনেক আগেই আসতে পারতো। এই কেনর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমার মনে পড়লো তুমি ঠিক কিভাবে নিজের লাঞ্চবক্স বারবার সায়নীকে দিয়ে যেতে খাওয়ার জন্য। কেও সন্দেহ করতোনা কিন্তু আমি করেছি, কি ওষুধ মেশাতে ওতে?রাহুল স্নেহাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে সে যা ভাবছে তা সত্যি নয় কিন্তু স্নেহা যেন বোঝার ইচ্ছাতেই নেই।স্নেহা বলে চলে, চুপ করো রাহুলদা, আমার কাছে সব প্রমান আছে, আর ঈশান তো কোনোদিনও মরেই নি, ওই আছে ওই পাগলাগারদে যাকে তুমি রোজ দেখতে যাও, যাকে তোমার স্ত্রী সৃজাও দেখতে যায়, এসব তোমাদের প্ল্যান। আমি বিগত দুদিনে বারবার ওই জায়গায় গেছি, তোমাদের দেখেছি। একটা জীবিত মানুষের কিভাবে ভুত হয়ে কাওকে ভয় দেখায়? কেন করছো মেয়েটার সাথে এরকম? রাহুল এবার টেবিল চাপড়ে বলে, হ্যাঁ আমাদের প্ল্যান আর যা করেছি বেশ করেছি, আর সায়নীকে যতদিন না ওই বেডের পাশে এনে ফেলতে পারছি ততদিন আমি থামবোনা। ওর মতো ডাইনির সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।স্নেহা, মুখ সামলে রাহুলদা, কে ডাইনি? তোমার বন্ধুকে না করেছিল বলে ডাইনি হয়ে গেলো? বাহ্ রে বাহ্ এইতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আদর্শ পুরুষ। বলি ঘেন্না হয়না নিজের উপর?রাহুলের চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট, সাথে যখন এই ঘৃণা শব্দটা সে শুনলো যেন তার কান লাল হয়ে ধোঁয়া বেরোবে, সে বললো , ঠিক আছে তুমি যখন এতদূর বললে তবে পুরোটা শোনো আর তারপর যদি তোমার মনে হয় আমি দোষী তবে পুলিশ ডেকো আমি নিজে ধরা দেবো। এই বলে রাহুল নিজের ফোনে 101 ডায়েল করে স্নেহার হাতে দিয়ে বলে, যদি মনে হয় আমি ভুল আমার কথা শোনার পরেও তবেই ফোন করো। স্নেহা, ঠিক আছে বলো, সব অপরাধীকেই শেষবারের নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।রাহুল বলতে শুরু করে - ফার্স্ট ইয়ারে যখন ঈশান আসে তখন ও খুবই সহজ সরল একটা ছেলে ছিল তবে প্রতিবাদে কোনোদিনও পিছু হাটতো না। ওর ওই গুন ওকে ইউনিয়নের অনেকের কাছেই পছন্দের পাত্র করে তুলেছিল। তো এই ঈশান ছিল পড়াশোনায় দুর্দান্ত, ওর বাবা ছিলোনা। মা আর ভাইয়ের দায়িত্ব ওর উপরেই ছিল আর সেই জন্য দিনরাত খেতে পড়াশোনা করতো। প্রথম সেমেস্টারের রেজাল্ট যখন আসে তখন ওই প্রথম হয় আর অবাক করা বিষয়ে সায়নী যে কিনা বিক্রমের সাথে সবসময় ঘুরতো সে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় ঈশানের দিকে। মাঝে মাঝেই নিজের চারচাকায় নিয়ে ওকে ঘুরতে যেত, বড়ো বড়ো রেস্টুরেন্টে দুজনকে একসাথে দেখতে পেতাম। আমি অতটা ভাবিনি বিষয়টা নিয়ে, ক্রমে বছর ঘুরলো দুজনে এই সম্পর্ককে বন্ধুত্ব বললেও কেও বিশ্বাস করতোনা আর উল্টোদিকে বিক্রমও ব্যাপারটা মেনে নিতে পারতোনা যে সায়নী ঈশানের সাথে সবসময় থাকে।মাঝে মাঝে বুঝতে পারতাম ঈশান সায়নীকে শুধু বন্ধু আর ভাবেনা।রাহুল একটু থামে ওর গলা ধরে এসেছে, টেবিলের উপরে রাখা জলের বোতল থেকে খানিকটা জল খায় তারপর বলে, তখন লাস্ট সেমিস্টার, পরীক্ষা শুরুর আগেরদিন ঈশানকে নিয়ে সায়নী কোথায় একটা গেলো। বেশ কিছুক্ষন পর যখন ঈশান ফিরলো ওই খুব খুশি ছিল, ও নিজের মাকে পর্যন্ত ফোন করে সায়নীর ব্যাপারে বললো আর আমায় বললো সায়নী নাকি বলেছে সায়নী ওকে বিয়ে করতে চায়। ব্যাপারটায় আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম, যাক শেষ পর্যন্ত সব ভালো হচ্ছে।কিন্তু বুঝিনি এটা সবে শুরু, পরেরদিন থেকে সায়নী কেমন যেন বদলে গেলো, ঈশানকে পাত্তা দিতোনা, কথা বলার সুযোগটুকু দিতোনা আর রাতে বাড়ি ফিরে ঈশান মেসেজ করার চেষ্টা করলে সেখানেও ওকে পেতোনা।এভাবে দুটো পরীক্ষা শেষ হলো, পরীক্ষার শেষে ঈশান আমায় ওর হোয়াটস্যাপ দেখিয়ে বললো একটাও মেসেজ সায়নীর কাছে নাকি ডেলিভার হচ্ছেনা। আমি দেখলাম আর বুঝলাম সায়নী ওকে ব্লক করেছে, এটা জানতে পেরে ওই বেচারা আর থাকতে পারেনি তখনই ক্লাসের মাঝে গিয়ে সায়নীকে প্রশ্ন করে যে ওই এমন কেন করলো। সায়নীর ব্যবহার আরো খারাপ ছিল, ও সেসময় হাসে আর ঈশানকে বলে যে ঈশান কখনো নিজের ক্লাস নিয়ে ভেবেছে? কোথায় ঈশানের কুঁড়েঘর আর কোথায় সায়নীর বাবার রাজপ্রাসাদ, ঈশানের কোনো যোগ্যতা নেই সায়নীর পাশে। তারপর বিক্রমের হাত ধরে সায়নী ঈশানের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়।ঈশান ভেঙে পরে, ওর মধ্যে আর ক্ষমতা ছিলোনা পড়াশোনা করার। পরের একটা পরীক্ষাও সে দিতে আসতে পারেনি, ঘরে বসে থাকতো চুপচাপ। যেদিন রেজাল্ট এলো সেদিন ও শুধু দেখেছিলো কিভাবে সায়নী ওর জায়গাটা ছিনিয়ে নিয়েছে, কিভাবে একটা নোংরামি ওকে এতটা পিছনে ঠেলে দিয়েছে যে ওর একটা বছর নস্ট হয়ে গেছে। ঈশানের চোখ দিয়ে যে জলের ফোটা সেদিন পড়েছিল সেটাই সায়নীর ধ্বংসের কারণ আজ। ঈশান তারপর আর কোনোদিনও সুস্থ হতে পারেনি, ওই নিজের উপর ভরসা রাখতে পারেনি, সব ভুলে গেছে শুধু সায়নীর নামটা মনে আছে আজও। সায়নীর সাথে ওর কোনো পুরোনো বন্ধুর যোগাযোগ নেই কেন জানো? ঠিক এই কারণে, কারণ কেওই এটা মেনে নিতে পারেনি যেটা সায়নী ঈশানের সাথে খেলেছে। এরপরও তুমি বলবে সায়নী ঠিক আর আমি ভুল?স্নেহা এতদূর শুনে বললো, মিথ্যা সব মিথ্যা রাহুলদা, সায়নীকে আমি চিনি ওই এরকম মেয়ে মোটেও না। পিছনে কখন সৌভিক এসে দাঁড়িয়েছে রাহুল বুঝতে পারেনি, সেও বলে উঠলো, রাহুলদা সব শেষ, তুমি ধরা পরে গেছো এবার কোর্টে তোমার সাথে দেখা হবে। সৌভিক স্নেহার থেকে ফোনটা নিয়ে ফোন করতেই যাচ্ছিলো পুলিশে এমন সময় সায়নীর গলার স্বর শোনা গেলো। সায়নী ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে আর সৌভিকের দিকে তাকিয়ে হাসছে উন্মাদের মতো।স্নেহা গিয়ে সায়নীকে শান্ত করার চেষ্টা করলো কিন্তু কোনো লাভ হলোনা, সায়নী হেসেই চললো তারপর ওই হাসির মাঝেই বললো, ঈশান তুমি মরেও আমার পিছন ছাড়লে না? ঠিকই বলেছিলাম সেদিন, তুমি আসলে কুকুরেরও অধম, তোমার সাথে প্রেম করবো আমি? ছিঃ, ঘেন্না হয় তোমার মতো ছেলেগুলোকে। কোনো ক্লাস নেই এদিকে নাকি বড়োলোক বাড়ির মেয়েকে বিয়ে করবে। বেশ করেছি, তুমি এই কোম্পানিতে চাকরি করার যোগ্য নও ঈশান, ওটার যোগ্য শুধু আমি, ওই গোল্ড মেডেলের যোগ্য শুধুই আমি। বোকা ছেলে, তোমার মতো ছেলেগুলোকে হারিয়ে এগিয়ে যাওয়া সবচেয়ে সোজা।এই জানো এখনো আবার একটা ছেলে আমার ফাঁদে পা দিয়েছে, ওটাকেও শেষ করবো ঠিক তোমার মতো। আমায় অনেক উঁচুতে যেতে হবে ঈশান, যেখানে পৌঁছাতে তোমার দুজন্ম আরো লাগবে। নিজেকে দেখো, না আছে একটা হাত, না ঠিক করে হাঁটতে পারছো, মরে ভুত হয়েও সেই আমার পিছনে ঘুরে বেড়াচ্ছ, হোয়াট আ লুসার। সৌভিককেও তোমার মতোই শিখিয়ে পরিয়ে দিও যাতে ভুত হয়ে ভয় দেখিয়ে বেড়াতে পারে।সায়নী এই বলে উন্মাদের মতোই হেসে চলেছে, ওর হাসি আজ বাঁধ মানছেনা।দুদিন পর শহরের এক নামি পাগলাগারদে: সায়নী নিজের বেডে বসে পাশের ছেলেটাকে বলে, এই ছেলে তোমার নাম কি?ছেলেটার মুখে একটা সরল হাসি ফুটে ওঠে, সে বলে, আমি ঈশান।সায়নী, তুমি ঈশান? জানো ঈশান বলে একটা ভুত আমায় খুব জ্বালায়, ওকে একটু বকে দেবে গো?ঈশান বলে, ভুত? সে কি মানুষের থেকেও বেশি ভয়ানক?বাইরে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালো সৌভিক, সামনে স্নেহা আর রাহুল এককাপ চা নিয়ে দাঁড়িয়ে।সৌভিকই প্রথম মৌনতা ভেঙে বললো, সরি দাদা, আর একটু হলে আমিও এই পাগলাগারদেই হয়তো থাকতাম। খারাপ লাগছে ঈশানকে দেখে, ওর পরিবার....রাহুল, চিন্তা করোনা, ওর ভাইয়ের দায়িত্ব আমার আর সৃজার। ওর ভাই এখন লাস্ট ইয়ারে পড়াশোনা করছে, ওই ছেলেটাও ঈশানের মতোই পড়াশোনায়, ঠিক একটা কিছু করেই নেবে।স্নেহা, দাদা একটা প্রশ্ন রয়েই গেলো। রাহুল, কি প্রশ্ন? স্নেহা, সায়নীকে তুমি পাগল করলে কিভাবে? রাহুল একটু হাসলো তারপর বললো, amphitamin, ওকে দিনের পর দিন এটারই ডোস দিয়েছি আর শেষদিন যখন ও পাগলের মতো হাসছিলো তখন ওকে যে বোতলের জলটা তুমি দিয়েছিলে ওটাতে শেষ ডোস ছিল, আমি জল খাওয়ার সময়ে মিশিয়ে দিয়েছিলাম, তোমার অলক্ষ্যে। ব্যাস, আমি জানতাম আমি যদি আজ পুলিশের কাছে ধরা পরেও যাই তবুও তোমরা সায়নীকে বাঁচাতে পারবেনা। ভাগ্য সহায় ছিল যে সায়নী নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় তোমরা আর আমায় জেলে পাঠাওনি, বদলে ওকে পাগল হতে দেখেছো আর ভয়ে ওর থেকে দূরে সরে গেছো । স্নেহা, জেলে তো ওরই যাওয়া উচিত, যে একটা পরিবারকে শেষ করে দিলো নিজের স্বার্থে। রাহুল, পরজন্মে দুজন যেন সুস্থ মানুষের মতো বাঁচতে পারে এই প্রার্থনাই করি ঈশ্বরের কাছে। ওরা নিজেদের চা শেষ করে নিজেদের গোঁন্ত্যব পথে পা বাড়ালো। তখন সূর্য ডুবে গেছে, বাইরেটা অন্ধকার গ্রাসঃ করেছে আর ভিতরে?তখনও সায়নী নিজের খেয়ালে ঈশানের সাথে বকবক করে চলেছে, যেন দুজন দুজনকে ছেড়ে এক মুহূর্ত থাকতে পারবেনা। ওদের মধ্যে কি সত্যিই কোনোদিনও ভালোবাসা তৈরী হয়নি? বোঝা মুশকিল। কারণ দৃশ্যত উন্মাদদের থেকে অনেক বেশি উন্মাদ হয় সুস্থ স্বাভাবিক মানুষেরা।সমাপ্তসায়ন্তন গোস্বামী

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
নিবন্ধ

তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(২য় পর্ব)

প্রথম পর্বের পরঃ তখন আমরা ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি , সবাই নতুন। খুব একটা বন্ধু আমার তখনও ছিলোনা কলেজে। আমি বিক্রম সৃজা ছিলাম তিন বন্ধু আর ঐদিকে ঈশান, স্নেহাশিস আর রাহুল ছিল তিন বন্ধু। এদের মধ্যে ঈশান একটু অন্যরকম ছিল, বদমেজাজি, অহংকারী। আমি বেশ বুঝতে পেরেছিলাম এই দম্ভ ওর নিজের প্রতি প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস থেকে আসে। ক্লাসে পড়া ধরলে আমি সবসময় উত্তর দিতাম, ও কোনোদিনও দিতোনা, একটু কেমনভাবে যেন তাকিয়ে থাকতো যেন মনে মনে আমার এতো পরিশ্রমকে কোনো পাত্তা পর্যন্ত দিচ্ছেনা। আমিও ওতো বেশি ভাবতাম না যতদিন আমি ওর সবচেয়ে রাগী রূপটা দেখেছিলাম। সেদিন ক্লাসে হটাৎ রঞ্জিতের দলবল এসে চড়াও হয় সঞ্জয়ের উপর, কি দোষ না সঞ্জয় ইউনিয়নে গিয়ে সিনিয়রদের নামে কমপ্লেন করে এসেছে এই বলে যে সিনিয়ররা নাকি আমাদের উপর রাগ্গিং করে জেতা মিথ্যা মোটেই ছিলোনা তবু কারোর মুখ খোলার সাহস ছিলোনা। আমরা সবাই ভয়ে চুপচাপ বসেছিলাম আর দেখছিলাম কিভাবে রঞ্জিতদারা ক্লাসে সবার সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে সঞ্জয়কে, ওদের মধ্যে দুজন তো চড় পর্যন্ত মেরেছে। একটা সময়ে আমরাই আর এই অপমান নিতে পারছিলাম না ঠিক তখন উদয় হলেন ঈশান। সে আসলো আর শুধু বললো সঞ্জয়কে না ছাড়লে ফল ভালো হবেনা, সিনিয়ররা ওর এই কথায় খুব হেসেছিলো কিন্তু হাসি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি কারণ কিছুক্ষনেই ক্লাসে আসে ইউনিয়নের দাদারা যারা এরপর আমাদের সামনেও আমাদের সিনিয়রদের অকথ্য ভাষায় অপমান করে। পরে জানতে পারি যে সেই ফোনটা আসলে ঈশান করেছিল, ওই যথেষ্টই সাহসী আর জেদি ছিল। ওর ওই সাহস আমায় আরো বেশি ওর দিকে টানতো আমিও পাগলের মতো ছুটতাম। তখনও বুঝিনি পরে বুঝেছি, ভুল করেছি আমি।এতদূর বলে সায়নী থামলো, ওর চোখ ডাইনিং এর ওই ফাঁকা চেয়ারটার দিকে, হয়তো ওখানেই এখনো ঈশান বসে। ওই চোখ ওই মুখ ওই হাসি। স্নেহাও ওর সাথে ঐদিকে তাকালো ভয়ে ভয়ে আর সায়নীকে বললো, তারপর? তারপর কি হলো?সায়নী, আচ্ছা স্নেহা তুই কাওকে চেয়ারে দেখতে পাচ্ছিস না সত্যি?স্নেহা আরো একবার পিছন ফিরে দেখলো, কোই কাওকে তো দেখা যায়না, কিন্তু সায়নীর এই কথাটা ওর মেরুদণ্ডে হিমশীতল স্রোত বয়ে আনে। স্নেহা, কে আছে পিছনে?সায়নী, ঈশান বসে আছে ওই একইভাবে। আমার দিকে তাকিয়ে।স্নেহা সায়নীর কাছে সরে আসে, মনে মনে সে হনুমান চল্লিশা জপ করতে শুরু করেছে আর সায়নীর বাম হাত বিছানার চাদরটাকে মুঠো করে ধরে আছে। হটাৎ ডাইনিং থেকে একটা স্টিলের গ্লাস পড়ার আওয়াজ হলো, দুজনের চমকে উঠে দুজনকে জাপ্টে ধরলো, যখন ভয়ের চরম সীমায় ওরা তখনই ওদের পোষ্য মিনি বেড়াল সুকু নিজের সুন্দর কণ্ঠে বলে উঠলো, মিওয়াওসুকুকে দেখে দুজনেরই ধড়ে যেন প্রাণ ফিরে এলো।অনেক কষ্টে স্নেহা বললো, তুই সত্যিই ওকে দেখতে পাচ্ছিস?সায়নী তখনও এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ডাইনিং এর ওই চেয়ারটার দিকে, বেশ কিছুক্ষন এভাবে কাটার পর অবশেষে যেন সায়নী হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো আর মৃদু স্বরে বললো, ও চলে গেছে।সায়নীর কথা শুনে ভয়ে ভয়ে স্নেহা আবারও খাটে এসে বসলো, আচ্ছা ছেলেটা কি কোনোভাবে..... আর নেই?সায়নী এই কথার কোনো উত্তর দিতে পারলোনা, ওর মুখ থেকে যেন অনেকক্ষন কোনো কথা বেরোলোনা তারপর অবশেষে বললো, ওর মরে যাওয়ার কথা নয়, ওর বেঁচে থাকারই কথা, কি হচ্ছে আমি নিজেও বুঝতে পারছিনা। ওর মতো ছেলে এতো সহজে জীবনের কাছে হার মানতে পারে?স্নেহা, তুই মাথা ঠান্ডা করে পুরো গল্পটা আমায় বল, আগে আমায় এটা জানতে হবে ঠিক কি হয়েছিল ঈশানের সাথে, তোর সাথে, তবে আমি বুঝতে পারবো আমাদের কি করা উচিত এই মুহূর্তে।স্নেহার কথায় সায়নী সায় দিলো আর আবারও বলতে শুরু করলো-ঈশানের প্রতি আমার আকর্ষণ দিন দিন বাড়তে লাগল, ক্রমে সেইদিন এলো যখন আমাদের ফার্স্ট সেমেস্টারের রেজাল্ট এলো আর সবাই জানতো ঈশান প্রথম হবে আর সেটাই হয়। ঈশানের নাম সবার আগে উজ্জ্বল, সেইদিন আমার নামটা ছিল ঠিক ওর পরে, দ্বিতীয় স্থানে। কোনোদিনও আমি প্রথম ছেড়ে দ্বিতীয় হয়নি, সেদিন হয়েছিলাম প্রথমবার আর যার জন্য হয়েছিলাম তাকে আরো জানার ইচ্ছা তীব্র হলো আর ঐদিনই প্রথমবার ওর দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলাম। ঈশানও দেখলাম আমার এই বন্ধুত্বের প্রস্তাবে এগিয়ে এলো। তারপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গাঢ় হলো, আমরা দুজন সবসময় একসাথে থাকতাম, সেটা লাইব্রেরি হোক বা ক্লাস বা কোথাও ঘুরতে যাওয়া। ঈশান থাকতো মেসে, আমি ওর পরিবারের বিষয়ে কোনোদিনও জিজ্ঞেস করিনি, তবে একদিন দেখেছিলাম ওদের বাড়ির অবস্থা বিশেষ ভালো না আর কোনো এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা ছেলে ও। ওর ধ্যান ধারণা আমাদের মতো নয় ঠিক, ওকে আমি কোনোদিনও বলিনি আমি ওকে ভালোবাসি আর যার বাড়ির এই অবস্থা সে বেশি কি বা করতে পারতো, খুব জোর হলে হয়তো গ্রাম থেকে উঠে শহরে আসতো। কিন্তু আমার বাবা তো শহরে রাজ করছে তাও বহুবছর ধরে, আমাদের ব্যবসা থেকে যা আয় হয় তাতে আমার বাবা ওদের বাড়ি দুবার কিনে বেচে দেবে হয়তো, সেই বাড়ির ছেলের সাথে আর যাই হোক আমার প্রেম হতে পারেনা। আর আমি এই বিষয়ে খুবই বাস্তববাদী, আমি ওই সিনেমার নায়িকাদের মতো অবাস্তব জগতে বাঁচতে পারিনা। আমি সবসময় বন্ধু হয়ে থেকেছি আর সেইসময় আমি দেখতাম ওর মধ্যের অদ্ভুত পরিবর্তন। ওই আমাকে নিজের স্ত্রীর মতো দেখতো যেন, কোনো ছেলে আমায় স্পর্শ করলে তাকে এমন মারতো যে সে দুদিন কলেজে আসতে ভয় পেতো। সেইসময় রাহুল রাজনীতিতে ঢুকেছে, কলেজ রাজনীতিতে ওর দাপুটে উপস্থিতি, আর রাহুলের বন্ধু হওয়ার সূত্রে কারোর সাহস ছিলোনা ঈশানের সাথে শত্রুতা করার আর এই ব্যাপারটার সম্পূর্ণ সুযোগ তুলতো সে। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড সৃজাও তখন রাহুল বলতে অজ্ঞান আর ঈশানকে ওই নিজের ভাইয়ের মতোই দেখতো তাই আমি ওদের চাইলেও কিছু বলতে পারতাম না।স্নেহা, আচ্ছা তোর সাথে এই ঘটনা কবে থেকে ঘটছে? মানে কবে থেকে তুই ঈশানের এই অশরীরী উপস্থিতি বুঝতে পারছিস?সায়নী একটু ভেবে বললো, বেশিদিন না, মাঝে মাঝে মনে হতো আমি ওর গলার স্বর শুনতে পাচ্ছি, কিন্তু দেখতে পেতাম না। ভাবতাম মনের ভুল, কিন্তু এখন ওকে আমি সামনেও দেখতে পাই, আর জানিনা এরপর কি হবে। আচ্ছা ওর সাথে কি কিছু খারাপ হয়েছে?স্নেহা, বুঝতে পারছিনা রে, এরকম ঘটনা আমি সিনেমায় দেখেছি, গল্পে পড়েছি কিন্তু আজ সত্যি দেখছি।সায়নী, জানিস একটা সময় এমনই আসে যখন ক্লাসের সবার সাথে ধীরে ধীরে ওই আমার সাথে কথা বলা পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়, আমায় দেখলে এমন একটা ব্যবহার করতে শুরু করে যেন আমি ক্লাসে থেকেও নেই, যেন আমি ঈশানের সম্পত্তি যেটার দিকে তাকানো উচিত নয়।স্নেহা, আচ্ছা তাই তোর কোনো পুরোনো বন্ধুর সাথে যোগাযোগ নেই, আমি আগে ভাবতাম তুই পুরোনো মানুষদের কেন এতো এড়িয়ে চলিস এমন কি প্রথম যখন রাহুল এই কোম্পানিতে আসে তুই ওকেও এড়িয়ে চলতিস যতদিন না রাহুল নিজে এসে তোর সাথে কথা বলেছিলো।সায়নী স্নেহার এই কথায় সায় দেয়, বলে, খুব অদ্ভুত লাগতো, বিশেষত রাহুল ঈশানের খুব ভালো বন্ধু ছিল। তাই আমি আরোই এড়িয়ে চলতাম।স্নেহা, তারপর? তারপর কি হলো?সায়নী- ঈশানের ব্যবহার দিনদিন বদলাতে শুরু করলো, আগে ওই অন্যদের মারধর করতো, পরে একই দোষে ওই আমার গায়েও হাত তুলতে শুরু করে, আমি নিজের বাড়িতেও জানাতে ভয় পেতাম এই ভেবে যে যদিও বাবা একবার জানতে পারে তবে ঈশানের সব শেষ করে ছাড়বে। আমি চাইতাম ঈশান নিজের জায়গায় সফল হোক ব্যাস আমার জীবন থেকে দূরে চলে যাক। এইভাবেই সেমিস্টারের পর সেমেস্টার শেষ হতে থাকে আর আমরা শেষের পথে এগোতে থাকি। এইসবের মধ্যে বিক্রমও আমার থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছিলো, একটা সময়ে আমি আর না পেরে ওকে সব জানাই আর ওর সাহায্য চাই। বিক্রম প্রথমে রাজি হয়নি পরে অবশ্য আমার কথা ভেবেই হোক বা যে কারণেই হোক ওই রাজি হয়। আমি শেষ সেমিস্টার শেষ হওয়ার পরেই ঈশানকে ব্লক করি। ওই আমায় হন্যে হয়ে খুঁজেছিলো তা আমি জানি আর যখন জানতে পারে বিক্রম আর আমি সম্পর্কে আছি তখন ওই বিক্রমের উপরেও একদিন চড়াও হয়েছিল। তারপর আর ওকে দেখিনি, অনেকবার চেষ্টার পর যেন হটাৎ নিঃস্তব্দতা। এদিকে প্লেসমেন্ট সিজন চলে এসেছিলো, আমাদের সবারই মোটামুটি চাকরি লেগে যায় আর আমি ছিলাম ক্লাসের টপার তাই আমি এই কোম্পানিতে খুব সহজেই চলে আসি, অথচ এই কোম্পানিতে আসা নাকি ঈশানের স্বপ্ন ছিল যে স্বপ্ন পূরণ করতে ওই কোনোদিনও এলোই না, কোনো প্লেসমেন্টে বসলোনা। প্রথম প্রথম ব্যাপারটা আমায় ভাবিয়েছিল কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সব পরিবর্তন হয় ঠিক সেরকমই আমার জীবনেও পরিবর্তন আসে। আজ তিন বছর কেটে গেছে, হটাৎ এসব কেন হচ্ছে আমি জানিনা রে সত্যিই জানিনা।সায়নী নিজের গল্প শেষ করলো আর এতক্ষন স্নেহা সব শুনলো, সব শুনে সে বললো, আমার মনে হয় কাল তোর রাহুলের সাথে কথা বলা উচিত, কারণ ঈশানের কি হয়েছে জানলে একমাত্র ওই জানবে আর কেও না।সায়নী, আমি ওকে জিজ্ঞেস করেছি রে কিন্তু ওই কোনো সোজাসুজি উত্তর দেয়নি, কাল আমায় জানতেই হবে যেভাবেই হোক।স্নেহা, কালকেরটা নাহয় কাল দেখা যাবে, তবে আজ আমার আর সাহস হচ্ছেনা, আমরা আজ একসাথেই থাকি বরং।সায়নী, সেটাই বরং ভালো, আমারো খুব একটা ভালো লাগছেনা এইসব কিছু। আচ্ছা স্নেহা তোর কি মনে হয় এটা কি আমার মনের ভুল নাকি সত্যিই কিছু আছে, সত্যিই ও আমায় ভোলেনি?স্নেহা, যাই হোক আজ রাতে আর ভেবে কাজ নেই সায়নী, কারণ যদি তোর দ্বিতীয় কথা সত্যি হয় তবে আমরা কিন্তু বড্ড বিপদের মধ্যে রয়েছি।এরপর আর দুজনে কোনো কথা বলেনি, রাতের ডিনার শেষ করে একসাথেই শুয়ে ঘুমিয়েছে। পরেরদিন সকালে যখন ঘুম ভাঙে সায়নীর সে দেখে আজও স্নেহা তৈরী অফিস যাওয়ার জন্য।স্নেহা বেরোনোর আগে একবার সায়নীর পাশে বসে বললো, কাল রাতের তুই কি ওকে আবারও দেখেছিস?স্নেহার এই কথাটা শুনে সায়নী একটু অবাক হলো তারপর বললো, তুই কি করে জানলি?স্নেহা, স্বপ্নে বারবার ওর নাম বিড়বিড় করছিলি আর বলছিলি...সায়নী, কি বলছিলাম আমি?স্নেহা, সেটা ঠিক বুঝতে পারিনি কিন্তু মনে হলো ঈশানকে শেষ করে দেবো এরকম কিছু বলছিলি।সায়নীর চোখে জল জমেছে বিন্দু বিন্দু, আর কি করবো, ওকে যে আমি কিছুতেই ছাড়াতে পারছিলাম না, সবসময় এই চিন্তাটাই মাথায় ঘুরতো কিভাবে ওর গল্প আমার জীবনে শেষ হবে আর দেখ হয়তো ওই চিন্তায় মাথায় কোনো গল্প তৈরী করেছে যেখানে আমারই মনে হচ্ছে ওই বেচে নেই, ভুত হয়ে আমায় তাড়া করছে। আমি সত্যি চাই ও বেঁচে থাকুক ভালো থাকুক।সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় আর সুযোগ হয়ে ওঠেনি রাহুলের সাথে কথা বলার, তবে সায়নী আজ ঠিকই করে রেখেছে আজ যেভাবেই হোক রাহুলের থেকে ঈশানের খবর জানতেই হবে। লাঞ্চ ব্রেক হলো দুপুর দুটোয়, সায়নী ক্যান্টিনের দিকে পা বাড়ালো ঠিক এমন সময় ওই বুঝতে পারলো ওর পাশে সৌভিকও যোগ দিয়েছে, কি গো কাল থেকে তো তোমার পাত্তাই নেই, কি হয়েছে, শরীর ঠিক আছে?সায়নী বিরক্তির সাথে বললো, সৌভিক প্লিজ আমায় একটু সময় দাও, আমার আশেপাশে এখন ঘুরঘুর করোনা মাথা গরম হয়ে গেলে কি বলে দেবো তার ঠিক থাকবেনা।সৌভিক, আরে সেটাই তো জানতে চাইছি তোমার হয়েছে টা কি, এরকম তো তুমি ছিলে না।সায়নী এবার ঝাঁঝালো স্বরে বললো, ছিলাম না এখন হয়ে গেছি, খুশি? এবার বিদেয় হও। তোমায় এক কথা ঠিক কতবার যে বলতে হয় জানিনা, আর তোমার কাজ নেই? সারাদিন মেসেজের পর মেসেজ করেই যাও, একটু একা থাকতে দাও না, আজব ছেলে তুমি একটা।এই বলে সায়নী আরো দ্রুত গতিতে ক্যান্টিনের দিকে এগোলো আর এদিকে সৌভিক বুঝে উঠতে পারলোনা কি হলো, এই মেয়েটার এই রূপ ও আগে কখনো দেখেনি।দু বছরের সম্পর্ক ওদের, এই দু বছরে সায়নীর থেকে ওই শুধুই ভালোবাসা পেয়েছে, এমন কি যখন দু বছর আগে এমপ্লয়ী অফ দা ইয়ার খেতাব পাচ্ছিলো তখনই প্রথমবার সায়নী এসে ওর দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো। ওই বছর অনেকেই ভেবেছিলো সায়নীর কর্মদক্ষতায় এই খেতাব ওই পাবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেতাব আসে সৌভিকের কাছে, সৌভিক আশাও করেনি সায়নীর তরফ থেকে বন্ধুত্ব। কিন্তু সায়নীর ওই স্বভাব ওকে সায়নীর প্রতি আকৃষ্ট করেছিল। সামনেই তো বিয়ের কোথাও বলবে ভেবেছিলো, বাড়িতেও জানাবে বলে ঠিক করেছিল আর এইসময় এইরকম ঘটনা সৌভিকের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছিলো।ও আর ক্যান্টিনে খেতে যায়নি, বরং নিজের কেবিনেই গিয়ে বসলো, কিছুক্ষন পর কেবিনে এলো স্নেহা।ক্রমশ.......(পরবর্তী পর্বে)লেখকঃ সায়ন্তন গোস্বামী, বর্ধমান

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
নিবন্ধ

তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(১ম পর্ব)

বাইরে তুমুল ঝড় বৃষ্টি, ঝড়ের তোড়ে ঘরের জানলা দরজার হুরদুর শব্দ শোনা যাচ্ছে। মাঝরাতে এমন ঘটনায় ঘুমটা ভেঙে গেলো সায়নীর। সায়নী উঠে বসলো, আর বিরক্তির স্বরে বললো, উফ এই স্নেহা এতো দায়িত্ব জ্ঞানহীন না, কতবার বললাম ঘুমানোর আগে ঘরের জানলা দরজা আগে বন্ধ করে যা, না রোজ সবদিকে আমায় খেয়াল রাখতে হবে। সেই সন্ধ্যে থেকে সায়নী ঘুমাচ্ছে, শরীরটা ভালোনা খুব একটা। হটাৎ সে দেখতে পেলো কেও যেন দৌড়ে বেরিয়ে গেলো ওর পাস দিয়ে, সায়নী ভয় পেলো, কি দেখছে সে সেই সন্ধ্যে থেকে। কে আছে এই বাড়িতে ওর আশেপাশে?সায়নী সাহস করে স্নেহার ঘরের দিকে এগোলো, সামনের ডাইনিংটায় সেরকম কিছুই চোখে পড়লোনা। একটু ধাতস্ত হয়ে সে ভাবলো হয়তো অতিরিক্ত কাজের চাপে ওর এই অবস্থা। সে এবার স্নেহার ঘরের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলো, স্নেহাকে নিচু স্বরেই ডাকলো, এই স্নেহা, ঘুমিয়ে গেছিস? কোনো উত্তর এলোনা, হটাৎ স্নেহার পাশে একটা ছেলেকে দেখলো সায়নী, এই আকস্মিকতায় সে যেন আঁতকে উঠলো, কে এই ছেলেটা আর এই ঘরে এলোইনা বা কখন? কোই তখন তো দেখেনি কাওকে? সায়নী কাঁপা স্বরে জিজ্ঞেস করলো, কে আপনি? এখানে কি চাই? ছেলেটা কোনো জবাব দিলোনা।সায়নী আবারও জিজ্ঞেস করলো, কে আপনি? উত্তর দিন বলছি, নাহলে কিন্তু পুলিশ ডাকবো। ছেলেটা এখনো কোনো উত্তর দিচ্ছেনা দেখে সায়নী আস্তে আস্তে ছেলেটার দিকে এগোতে থাকলো। অন্ধকারে বিশেষত চেহারাটা বোঝা যাচ্ছেনা। ছেলেটার সামনে এসে সায়নী টেবিল ল্যাম্পটা জ্বালিয়ে দিলো আর সঙ্গে সঙ্গে যে মুখটা সায়নী দেখলো সেটা দেখে সায়নীর পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেলো, মাথাটা যেন বনবন করে ঘুরছে, সে কি দেখছে এটা? কার মুখ?সায়নী তারস্বরে চিৎকার করে উঠলো, তুমি এখানে কিভাবে? কি চাই তোমার? চলে যাও বলছি, চলে যাও।ছেলেটা হাসছে, এবার সে উঠে সায়নীর দিকে এগোতে লাগলো আর সায়নী পিছনে, একসময় সায়নীর পিঠ দেয়ালে থেকে গেলো সায়নী দেখলো ছেলেটা আরো এগিয়ে আসছে, একসময় এগিয়ে এসে সায়নীকে জড়িয়ে ধরলো, সায়নী আবারও চিৎকার করে বলে উঠলো, ঈশান ছাড়ো আমায়, দূরে যাও আমার থেকে এই বলে সজোরে একটা থাপ্পড় মেরে বসলো, তারপরেই সে দেখলো থাপ্পরটা আসলে সে স্নেহাকে মেরেছে, স্নেহা বেচারী থাপ্পড় খেয়ে খানিকটা হতবম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে তারপর বলে, কি হয়েছে কি? এরকম পাগলের মত করছিস কেন? ভুত দেখেছিস নাকি? আজব তো? আর এতো জোরে থাপ্পড় কে মারে। সায়নী, সরি সরি, আমি বুঝতে পারিনি ঠিক কি হলো।স্নেহা, আমি বেশ বুঝতে পারছি। সায়নী, কি বুঝতে পারছিস? স্নেহা, যে তোর মাথাটা একদমই গেছে কাজ করে করে। আর এই ঈশান আবার কে? এর নামতো শুনিনি কোনোদিনও। সায়নী নামটা শুনে একটু যেন অস্বস্তিতে পরে যায় তারপর আবার বলে, না না কেও না, তুই ঠিকই বলেছিস আমারই মাথাটা গেছে হয়তো। সরি রে, তুই ঘুমা। স্নেহা, তুইও ঘুমা আমার পাশে আজকে, তোকে দেখে সুস্থ লাগছেনা, আজ একা থাকতে হবেনা আমার সাথেই থাক। সায়নীর স্নেহার কথাটাই ঠিক লাগে, আজকে ওর সাথে যা হচ্ছে সেটা স্বাভাবিক ওর লাগছেনা তাই কথা না বাড়িয়ে স্নেহার পাশেই শুয়ে পরে।সকালে ঘুম ভাঙতে বেশ দেরি হলো সায়নীর, যখন চোখ খুললো তখন দেখলো স্নেহা অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরী।সায়নী, তুই ডাকিসনি আমায়? স্নেহা, ডাকিনি মানে কি? তুই তো কুম্ভকর্ণ হয়ে ঘুমাচ্ছিস, এতবার দেখলাম, অ্যালার্ম বাজলো এতবার কিন্তু মহারানির তো ঘুম ভাঙার কোনো সম্ভবনাই দেখলাম না তাই বাধ্য হয়ে নিজেই রেডি হয়ে গেলাম। তোর ব্রেকফাস্ট রেডি আছে, খেয়ে অফিস আয় আমি বেরোলাম। এই বলে স্নেহা বেরিয়ে গেলো। সায়নী বিছানা ছেড়ে তৈরী হওয়ার জন্য বাথরুমে গেলো, কালকের রাতের স্মৃতি আবছা হয়ে এসেছে। প্রতিদিনের মতোই আজও সে অফিসে এলো, একটু দেরি হয়েছে বটে তবে বেশি না। এসেই নিজের ডেস্কে বসে কাজ শুরু করলো।সারাদিনে সেভাবে আর কিছুই মনে হয়নি। দুপুরে লাঞ্চের পর আবারও সেই পুরোনো কথা মনে পড়তে শুরু করলো, নাহ ব্যাপারটা বেশ অদ্ভুত, ঈশান এখন আছে কোথায়? কেমন আছে সে? এইসব ভাবনা যখন জট পাকাছে ঠিক তখনই সামনে এসে বসলো রাহুল। রাহুল সিংহ, এই অফিসেই সিনিয়র পসিশনে আছে আর সায়নীর পুরোনো ক্লাসমেট।রাহুল, কি হলো এতো চুপচাপ? কি ভাবছিস? সায়নী কোনো রাখঢাক না করেই বললো, আচ্ছা ঈশান কথায় রে? রাহুল একটু যেন অবাক হলো তারপর বললো, জানিস না ও কোথায়? সবাই তো জানে, তুইই জানিস না? সায়নী একটু কম্পিত কণ্ঠে বললো, কি জানি না জেতা সবাই জানে? রাহুল, ছাড় যখন জানিস না তখন না জানাই বেটার। আমি উঠলাম আমার একটু কাজ আছে রে। আচ্ছা আমার টিফিনটা তোকে দিয়ে গেলাম শেষ করে দিস প্লিজ নাহলে আবার সৃজা খুব রাগ করে। সায়নী বুঝতে পারলো রাহুল ইচ্ছা করেই কথাটা ঘুরিয়ে দিলো, আর সায়নী খুব ভালো করেই জানে রাহুল কিছু বলতে না চাইলে তাকে দিয়ে বোলানো খুব মুশকিল।কিন্তু রাহুলই একমাত্র ওর প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে তাই যেভাবেই হোক এর মুখ খোলাতেই হবে, সেটা আজ নাহোক কাল।রাহুল, কি রে আবার কি ভাবতে বসলি? আমি কিন্তু বেরোলাম। সায়নী, আচ্ছা বেশ, শেষ করে দেবো। যাচ্ছিস কোথায়? রাহুল, এখন বলা যাবেনা, বাই। রাহুল বেরিয়ে গেলো, সায়নীও খাওয়ার শেষ করে নিজের কাজে মন দিলো। আজ প্রায় একমাস হলো রাহুল এই কোম্পানিতে এসেছে, প্রথম যেদিন রাহুলকে দেখেছিলো সেদিন ভয়ই লেগেছিলো একটু কিন্তু রাহুলের ব্যবহার ওকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছিল। ছেলেটা কলেজও এরকমই ছিল, ইউনিয়ন লিডার বলে কথা, সবার সাথে ভাব আর বন্ধুদের জন্য ওর প্রাণ হাজির। রাহুল নিজেই ডেকে কথা বলেছিলো, বরং সায়নী ওকে জিজ্ঞেস করেছিল, তুই কথা বলবি আমার সাথে? রাহুল হেসে বলেছিলো, ছাড় না যা হওয়ার হয়ে গেছে ওটাতো আর ফেরানো সম্ভব নয়। তারপর থেকে লাঞ্চের সময় ওর সাথে বারবার দেখা হতো, রাহুলের একটা বদঅভ্যাস হলো ও নিজের বাড়ির রান্না কোনোদিনও খায়না, ওর স্ত্রী সৃজা হলো সায়নীরই বন্ধু, এখন অবশ্য আর যোগাযোগ নেই বিশেষ। রাহুল প্রতিদিন নিজের লাঞ্চ সায়নীকে দিয়ে বাইরে খেতে চলে যায়, আজকেও একই কাজ করলো। সায়নী মনে মনে একটু হাসলো এই ভেবে যে আজ যদি সৃজার সাথে সম্পর্ক সেইরকম থাকতো ওই নির্ঘাত রাহুলের নামে অভিযোগ জানাতো, তবে সৃজার হাতের খাওয়ার খেতে সায়নীর ভালোই লাগে, সৃজার রান্না এমনি যে এতে শরীর ভালো থাকে।শীত আসতে আর বেশি দেরি নেই, সন্ধ্যেটাও ঝুপ করে নেমে যায় সাথে শীতল একটা হাওয়া। সায়নী অফিস থেকে বেরিয়ে চায়ের দোকানটায় যায় আর একটা চা বলে, সৌভিক এসে বসে পাশে, কি ম্যাডাম? আজ কাজ শেষ?সায়নী একটু বিরক্তির সাথে বললো, হ্যাঁ তো কি সারারাত থাকবো নাকি? সৌভিক, কি হয়েছে, রেগে আছো মনে হচ্ছে? সায়নী, কেন রেগে থাকতে যাবো কেন আজব তো? সৌভিক, আরে বলোই না, কি হয়েছে? খুব একটা শরীরও ভালো নেই শুনলাম। সায়নী, কে বললো? স্নেহা? সৌভিক, হ্যাঁ স্নেহাই বলেছে, কি হয়েছে বলো এবারে। সায়নী, আমি নিজেই জানিনা তো কি বলবো আর শোনো তোমার যদিও কিছু বলার থাকে তো বলো না হলে আমি চললাম। এই বলে নিজের কাপের চা শেষ করে সে উঠে দাঁড়ালো।সৌভিকও নিজের চায়ের কাপ শেষ করে সায়নীর পিছু নিলো। সায়নী কিছুদূর গিয়ে অটো ডাকলো, অটোচালক থামতেই সায়নীর সাথে সাথে সৌভিকও উঠে বসলো, অটোচালক গাড়িতে স্টার্ট দেওয়ার সাথে সাথে শুরু হলো সায়নীর প্রকোপ।সায়নী, এই কি ব্যাপার কি? তুমি আমার পিছু করছো কেন? সৌভিক, আজব, তোমার পিছু করবোনা তো আর কার করবো? সায়নী, কেন তোমার ওই অ্যাসিস্ট্যান্ট সোহিনীর সাথে তো বেশ লটরপটর চলছে তোমার, কত্ত গায়ে পরে হাসাহাসি, যেন এখনই জড়িয়ে ধরবে। সৌভিক, আরে ওসব কিছু না আর মেয়েটা বড্ডো গায়ে পড়া তুমিতো জানোই। সায়নী, ওই মেয়েটা এখন শুধু গায়ে পড়া আর তুমি যে সেটা নিয়ে কিছু বলোনা কোনো প্রতিরোধ করোনো সে ব্যাপারে কোনো জবাবদিহি আছে তোমার কাছে? সৌভিক, তুমি বেকারই একটা ছোট ব্যাপারকে বড়ো করছো কিন্তু এবারে, তুমি নিজেও জানো আমি এমন কিছুই করিনা যাতে তুমি আমায় এইরকম বলতে পারো।সৌভিক আর সায়নীর বাকবিতন্ডার মাঝেই অটো এসে থামলো সায়নীর আপার্টমেন্টের সামনে। সায়নী আর কথা না বাড়িয়ে অটো থেকে নেমে নিজের আপার্টমেন্টের দিকে পা বাড়াল, এদিকে সৌভিকও বেশ খারাপই পেয়েছে, এভাবে এতো কথা বলে গেলো সায়নী যে এখনো কিরকম একটা লাগছে। প্রথম প্রথম তো সায়নী এমন ছিলোনা, এখন যতদিন যাচ্ছে ততো ওর মধ্যে এইসব সন্দেহপ্রবণতা বাড়ছে আর অফিসের নীতি অনুযায়ী ওরা কোনোভাবেই নিজেদের সম্পর্ক অফিসে জানাতে পারবেনা, সে ক্ষেত্রে কোনো একজনকে তো অফিস ছাড়তেই হবে। এবার সৌভিকের অবস্থা এমন নয় যে এখনই অন্য কোথাও যেতে পারবে। সৌভিক আর মাথা ঘামায় না, বরং নিজের বাড়ির দিকেই এগিয়ে যায়।সায়নী ফ্ল্যাটের চাবি খুলতেই একটা খুব চেনা গলার আওয়াজ শুনলো, বুকটা কেমন যেন কেঁপে উঠলো, না চাইতেও মুখ ফুটে বেরিয়ে এলো, ঈশান? সায়নী চারিদিকে তাকিয়ে দেখলো, না কোথাও ঈশান নেই তবে? সায়নী ফ্ল্যাটের ভিতর ঢুকে এলো, স্নেহা অনেক আগেই ফিরে এসেছে। সায়নী ঘরে ঢুকে চেঞ্জ করে যখন বেরিয়ে এলো তখন দেখলো টেবিলে আলো আঁধারিতে কেও যেন বসে, সায়নীর বুক আবারও কাঁপতে শুরু করলো, কে তুমি? সে কোনো উত্তর দিলোনা শুধু ওর দিকে একটা চায়ের কাপ এগিয়ে দিলো, আর ইশারায় বললো চা খেতে। সায়নীর যেন নিজের ভিতরের সব প্রতিরোধ শেষ হয়ে গেছে, সে সেই লোকটার সামনে এসে বসলো তারপর আবারও বললো, কি চাই তোমার?এবার আলোয় লোকটার মুখ পরিষ্কার দেখলো সায়নী, সেই শ্যামবর্ণ মুখ, সেই হাসি সেই চোখ, ঈশান দাস।সায়নী, তুমি কেন এভাবে আমার বাড়িতে আসছো? তুমি কি সত্যিই আছো নাকি আমিই ভুল দেখছি? উত্তর দাও ঈশান ঈশান, কেন ভুলে গেলে আমায়? আমায় না তুমি বলতে আমায় বিয়ে করবে তুমি? কোই আমায় ভুলে তো বেশ সুখে আছো। সায়নী, কিন্তু তুমি আগে বলো তুমি এভাবে ঘরের ভিতরে আসছো কিভাবে? ঈশান আমি তোমায় পুলিশে দেবো। ঈশান, কি হয়েছে তোর? এরকম বলছিস কেন? আর এই ঈশান কে? ঈশানের গলাটা কেমন যেন স্নেহার মতোই, হটাৎ সায়নী বুঝলো সামনে ঈশান নয় স্নেহা বসে, কোনো অন্ধকার নেই বরং আলোর মধ্যেই বসে দুজনে।সায়নী এই নভেম্বরে নিজের ঘরে ফ্যানের তলায় বসেও ঘামছে।স্নেহা, এই ঠিক আছিস? কি হয়েছে প্লিজ বলবি? তোকে সুস্থ লাগছেনা কিন্তু। সায়নী, আমি পারছিনা স্নেহা, আমার সত্যিই ভয় করছে, ঈশানকে আমি সব জায়গায় দেখছি, আমার বোধহয় মাথাটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। ঈশান কোথায় আমি জানিনা। স্নেহা, কে ঈশান সেটা আগে বলবি? সায়নী গ্লাসে রাখা জলটা খায় তারপর স্নেহাকে বলে, আচ্ছা স্নেহা আমি কি তোকে বিশ্বাস করতে পারি? স্নেহা, বিশ্বাস না করার মতো কি আছে? আমিতো সেটাই বুঝছিনা আর আজকাল তুই বড্ডো কিরকম একটা হয়ে গেছিস, আজকাল সবসময় কিরকম একটা করিস। হয়েছে কি তোর সেটা খুলে বললে আমার পক্ষেও ভালোই হয়।সায়নী, কোনোদিনও এমন কাওকে দেখেছিস চোখের সামনে যাকে জীবন্ত লাগে কিন্তু আসলে সে সামনে নেই?এই কথাটা শুনে স্নেহার কেমন যেন অস্বস্তি হলো, কি বলতে চাইছিস? কাকে দেখছিস তুই? সায়নী ডাইনিং থেকে নিজের ঘরে গিয়ে খাটের উপর বসলো।সায়নী নিজের খাটের উপর এসে বসলো আর চারিদিকে বার কয়েক তাকিয়ে দেখলো যদিও কিছু অন্যরকম তার চোখে ধরা পরে। নাহ, সেরকম কিছুই তার চোখে পড়লোনা যা তার সন্দেহ বাড়াতে পারে। এদিকে স্নেহা ক্রমশ উদগ্রীব হয়ে উঠছে এটা জানার জন্য যে সত্যিই কি সায়নী ভুত দেখছে নাকি, স্নেহা সেই ছোটবেলা থেকেই একটু ভুতে ভয় পায়, যদিও সবার সামনে কোনোদিনও প্রকাশ হতে দেয়নি, তবুও ভুতের ব্যাপার এলে স্নেহা সেই জায়গা থেকে দু পা দূরে থাকে। এখানে তার কোনো বুদ্ধি বা যুক্তি খাটেনা।স্নেহাও এসে সায়নীর পাশে বসলো আর ওর উরুতে হাত রেখে বললো, এই সায়নী বল না প্লিজ, কি দেখছিস তুই? সায়নীও ওর দিকে তাকালো, হয়তো ভাবছে বলা ঠিক হবে কিনা, তারপর আর পারলো না নিজেকে সামলাতে, অনেক বড়ো গল্প ধৈর্য লাগবে। স্নেহা, তুই বল না আমি শুনছি, আছি তোর পাশেই।সায়নী বলতে শুরু করলো-ক্রমশ.......(পরবর্তী পর্বে)লেখকঃ সায়ন্তন গোস্বামী, বর্ধমান

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

ট্রেন্ডিং

দেশ

যে কোনও মুহূর্তে নেমে আসতে পারে তুষারধস? বদ্রীনাথ নিয়ে গবেষণায় বড় সতর্কবার্তা

চার ধামের অন্যতম বদ্রীনাথ কি বড় বিপদের মুখে? উত্তরাখণ্ডের এই পবিত্র তীর্থক্ষেত্রের উপর ঝুলে রয়েছে তিনটি হিমবাহ। গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, এই হিমবাহগুলির কোনও একটিতে ফাটল ধরলে সেখান থেকে নেমে আসতে পারে বিশাল বরফের স্রোত। তাতে বদ্রীনাথের মন্দির এলাকা, জনবসতি, রাস্তা এবং কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।সম্প্রতি নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সাক্ষী থেকেছে বিশ্ব। কয়েক দিন আগে ভুটানে হ্রদ ভেঙে সংকোশ নদীতে জলস্রোত বেড়ে যাওয়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে নতুন একটি গবেষণায় বদ্রীনাথের হিমবাহ নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ভারতের হিমালয়ের বদ্রীনাথ জনপদে ঝুলন্ত হিমবাহ থেকে সৃষ্ট তুষারধসের ঝুঁকি মূল্যায়ন শীর্ষক ওই গবেষণায় এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।গবেষণায় বলা হয়েছে, বদ্রীনাথের উপর ঝুলে থাকা তিনটি হিমবাহের কোনও একটিতে ফাটল ধরলে সেখান থেকে বরফের বিশাল অংশ নীচে নেমে আসতে পারে। সেই বরফের স্রোতে জনবসতি, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট এবং কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটা হবে, তা নির্ভর করবে বরফ কত দূর পর্যন্ত নেমে আসছে তার উপর। পাহাড়ের ঢাল এবং জমির গঠনও এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, তুষারধসের গতি এবং তার ফলে কতটা ক্ষতি হতে পারে, তা শুধু বরফের পরিমাণের উপর নির্ভর করে না। বরফ যে পথ দিয়ে নীচে নামবে, সেই পথের আকৃতি এবং আশপাশের ভূপ্রকৃতিও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে। ফলে একই পরিমাণ বরফের ধস হলেও বিভিন্ন এলাকায় তার প্রভাব আলাদা হতে পারে।এই বিপদ মোকাবিলায় আগাম সতর্কতার উপর জোর দিয়েছেন গবেষকেরা। তাঁদের পরামর্শ, বদ্রীনাথের আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি আগে চিহ্নিত করতে হবে। প্রতিটি এলাকার ঝুঁকি অনুযায়ী আলাদা করে প্রস্তুতি নিতে হবে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় নির্মাণকাজের উপর নিয়ন্ত্রণ এবং নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।প্রাকৃতিক বিপর্যয় পুরোপুরি আটকানো সম্ভব নয়। তবে আগাম ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া গেলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো যেতে পারে। বদ্রীনাথের মতো গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্র এবং সেখানকার মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাই এখন থেকেই সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে এই গবেষণা।

নভেম্বর ০১, ২০২৬
বিদেশ

৩২ লক্ষ আফ্রিকানকে দাস হিসেবে পাচার! ব্রিটেনের ইতিহাসের সেই অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে এবার ক্ষমার সুর

আফ্রিকার লক্ষ লক্ষ মানুষকে অপহরণ করে দাস হিসেবে বিক্রি করেছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীরা। সেই দাস ব্যবসায় বড় ভূমিকা ছিল ব্রিটেনেরও। বহু বছর ধরে চলে আসা এই নিষ্ঠুর ব্যবসার জন্য এ বার আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত ব্রিটিশ সরকার। সম্প্রতি এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তবে অতীতের এই অন্যায়ের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি তিনি মানতে রাজি নন।শুক্রবার দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী সপ্তাহে অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডায় বসতে চলেছে কমনওয়েলথের শীর্ষ সম্মেলন। তার আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ওই সম্মেলনে ক্যারিবিয়ান দেশগুলি ব্রিটেনের কাছে দাস ব্যবসার জন্য ক্ষমা এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।নিবন্ধে বার্নহ্যাম লিখেছেন, দাস ব্যবসার শিকার মানুষদের যে ভয়াবহ যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছিল, তা তিনি বুঝতে পারেন। সেই ঘটনার জন্য তিনি গভীর ভাবে মর্মাহত। তাঁর মতে, অতীতের সেই নিষ্ঠুরতার প্রভাব এখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি।প্রধানমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে আফ্রিকার মানুষদের দাস হিসেবে পাচারের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করছে ব্রিটিশ সরকার। সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমা চাওয়ার যে দাবি উঠেছে, আলোচনায় সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। এই দাবি শুনতে তিনি প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন।তবে আর্থিক ক্ষতিপূরণের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান আলাদা। বার্নহ্যামের বক্তব্য, অতীতের অন্যায়ের জন্য বর্তমান ব্রিটিশ নাগরিকদের দায়ী করা যায় না। তাঁর মতে, সেই ঘটনা ঘটেছিল অন্য এক সময়ে, অন্য আইনের অধীনে। সেই সময়ের অন্যায়ের সঙ্গে বর্তমান ব্রিটিশ জনগণ বা সরকারের ব্যক্তিগত কোনও ভূমিকা নেই। তাই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবির সঙ্গে তিনি একমত নন।উল্লেখ্য, ব্রিটেনের রাজা চার্লস বর্তমানে ক্যারিবিয়ান দেশগুলি সফর করছেন। বাহামাসে গিয়ে তিনি সেখানকার দাসপ্রথার ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেছেন এবং ব্রিটিশ শাসনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তবে দাস ব্যবসার জন্য ব্রিটেনের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া হয়নি। তাই প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।ব্রিটিশ সরকারের বক্তব্য, দাস ব্যবসা থেকে ব্রিটেন যে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছিল, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে পরে দাসপ্রথা বন্ধ করার ক্ষেত্রেও ব্রিটেন ভূমিকা নিয়েছিল বলে দাবি তাদের। ১৮৩৩ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করে। যদিও দাসপ্রথা বন্ধের পরেও ভারত-সহ বিভিন্ন দেশে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ চলেছিল।ইতিহাসের হিসাব অনুযায়ী, পঞ্চদশ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যে ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা অন্তত ১ কোটি ২৫ লক্ষ আফ্রিকানকে অপহরণ করে দাস হিসেবে বিক্রি করেছিল। এর মধ্যে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের হাতে পাচার হয়েছিলেন প্রায় ৩২ লক্ষ মানুষ। সেই অন্ধকার ইতিহাসের জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবি নতুন করে জোরালো হচ্ছে। তবে ক্ষমা চাওয়ার পথে এগোলেও ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি নয় ব্রিটেন।

নভেম্বর ০১, ২০২৬
কলকাতা

ইন্দ্রনীল গ্রেফতারের তিন দিনের মাথায় স্ত্রীকে লালবাজারে তলব! জেরায় কী জানালেন মধুছন্দা?

ইউনেস্কোর নাম এবং লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো-এর পাস বিক্রির অভিযোগে তদন্তে নতুন মোড়। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনকে শনিবার লালবাজারে জেরা করল বিশেষ তদন্তকারী দল। ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতার হওয়ার তিন দিনের মধ্যেই তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হল। রাত আটটা পর্যন্ত দফায় দফায় চলে জেরা।যে সংস্থার নামে পুজোর প্রিভিউ শো-এর পাস বিক্রি করা হয়েছিল, সেই মাস আর্ট-এর সভাপতি ছিলেন মধুছন্দা। অভিযোগ, ইউনেস্কোর লোগো বেআইনি ভাবে ব্যবহারের অনুমতি নেওয়া থেকে শুরু করে সংস্থার বিভিন্ন নথিতে তাঁর সই ছিল। গত জুন মাসে বউবাজার থানায় যে অভিযোগ জমা পড়েছিল, তাতে দ্বিতীয় অভিযুক্ত হিসেবে মধুছন্দার নাম ছিল। প্রথম অভিযুক্ত ছিলেন তাঁর স্বামী ইন্দ্রনীল সেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেরার সময় মধুছন্দা দাবি করেছেন, মাস আর্ট-এর অন্য কর্তারা যেখানে সই করতে বলেছেন, তিনি সেখানেই সই করেছেন। তাঁকে কোনও বিষয়ে চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে ইন্দ্রনীল স্ত্রীকে কোনও নথিতে সই করার জন্য চাপ দিতেন কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মধুছন্দাকে জেরা করে সংস্থার সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি বসুর নামও উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এ ছাড়া এফআইআরে নাম থাকা আরও দুজনের ভূমিকা কী ছিল, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। তাঁদের সঙ্গে মধুছন্দা ও ধ্রুবজ্যোতিকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।তদন্তকারীদের দাবি, ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ সংস্থা থার্ড লাইন ক্রিয়েশন মাস আর্ট সোসাইটিকে ৬৬ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিল। ওই টাকার মধ্যে ২২ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা আইস্কেপ এবং মায়রা নামে দুটি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। গোয়েন্দাদের কাছে খবর, এই দুটি সংস্থা ইন্দ্রনীলের মেয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন। সেই সূত্রে তাঁকেও লালবাজারে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ তিনটি সংস্থার কর্মীদের কাছ থেকেও বিভিন্ন তথ্য জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। প্রয়োজনে ওই সংস্থাগুলির কর্মীদের একে একে জেরা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।অন্য দিকে, তদন্তকারীদের কাছে পুজো উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ইউনেস্কোর লোগো দেখে তাঁরা এই প্রিভিউ শো-তে অংশ নিতে রাজি হয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, মাস আর্ট-এর কর্মীরাই বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে গিয়ে প্রিভিউ শো-এর ব্যবস্থা করতেন। এর বদলে পুজো কমিটিগুলিকে সামান্য টাকা এবং এলইডি গেট বসানোর সুযোগ দেওয়া হত। অভিযোগ, ওই গেটে বিজ্ঞাপন দেখানোর পরিবর্তে পুজো উদ্যোক্তাদের দেড় থেকে দুলক্ষ টাকা দেওয়া হত।পুলিশের দাবি, পাস বিক্রির বিনিময়ে পুজো উদ্যোক্তারা খুব সামান্য টাকা পেয়েছিলেন। গোটা আর্থিক লেনদেন এবং সংস্থাগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মধুছন্দার জেরার পর এই মামলায় আর কার কার নাম উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

নভেম্বর ০১, ২০২৬
কলকাতা

উৎসবের মরসুমে নিরাপত্তায় বড়সড় প্রস্তুতি, পুজো কমিটিগুলিকে কী কী করতে বলল নবান্ন?

দুর্গাপুজো শেষ। সামনে কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো এবং ছটপুজো। এই উৎসবগুলিকে ঘিরে বিভিন্ন মণ্ডপ ও ঘাটে প্রচুর মানুষের ভিড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখতে চাইছে না রাজ্য প্রশাসন। চোরবাগান কাণ্ডের পর আরও সতর্ক হয়েছে প্রশাসন। উৎসবের ভিড় সামলানো থেকে শুরু করে অগ্নিনির্বাপণ এবং ঘাটের নিরাপত্তাসব বিষয়েই একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন।নির্দেশিকায় পুজো কমিটিগুলিকে মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রবেশ ও বেরোনোর পথ যথেষ্ট চওড়া রাখতে হবে। কোনওভাবেই যাতে মণ্ডপের ভিতরে অতিরিক্ত ভিড় জমে না যায়, সে দিকে নজর রাখতে হবে। দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।কোন মণ্ডপে কত মানুষের ভিড় হতে পারে, তা মাথায় রেখে পুলিশ মোতায়েন করতে হবে। পাশাপাশি মণ্ডপে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখতে হবে। নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা ঠিকমতো করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে পুলিশ ও প্রশাসন।মণ্ডপে অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা এড়াতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুজো কমিটিগুলিকে। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে যাতে দমকল পৌঁছতে পারে, সেই ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।শুধু মণ্ডপ নয়, ছটপুজো উপলক্ষে বিভিন্ন ঘাটের নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক প্রশাসন। ঘাটে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। নৌকায় রাখতে হবে লাইফ জ্যাকেট। পাশাপাশি ঘাটগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহিলাদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থাও করতে হবে।কালীপুজো ও জগদ্ধাত্রী পুজোর পরেই রয়েছে ছটপুজো। ফলে উৎসবের মরসুমে মণ্ডপ এবং ঘাটে ভিড় সামলানো প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। চোরবাগান কাণ্ডের পর কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না নবান্ন। তাই আগেভাগেই পুজো কমিটি, পুলিশ এবং প্রশাসনের জন্য একাধিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

নভেম্বর ০১, ২০২৬
রাজ্য

মতুয়াদের জন্য বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, দু’মাসের মধ্যে নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়ার আশ্বাস

আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী আবেদনকারীদের শুনানি শেষ করে শংসাপত্র দেওয়ার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার ঠাকুরনগরে আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনে যোগ দিয়ে এই ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এখনও প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদনকারীর শুনানি বাকি রয়েছে। আগামী দুমাসের মধ্যে সেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাওয়ার পর ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রেও সরকার সাহায্য করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঠাকুরবাড়িতে আয়োজিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, এই সরকার শুধু বিজেপির নয়, মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরও। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে তাঁদের অযথা চিন্তা করার প্রয়োজন নেই বলেও আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে এই আইন কার্যকর করা নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দু বলেন, ঠাকুরনগরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর করার কথা বলেছিলেন। ২০২৪ সালের ৬ মার্চ এই আইন কার্যকর করা হয়। তাঁর দাবি, অন্য রাজ্যগুলিতে এই আইনের আওতায় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোলেও পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিরোধিতা করেছিলেন। এর ফলে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ সমস্যায় পড়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর শিলিগুড়িতে অমিত শাহের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। তাঁর দাবি, গুজরাত ও রাজস্থানের মতো রাজ্যে এই আইন কার্যকর করার ক্ষমতা দেওয়া হলেও পশ্চিমবঙ্গে আগের সরকার তা করেনি। কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের সাহায্যে যতটা সম্ভব শুনানির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।শুভেন্দুর কথায়, এখন নাগরিকত্বের আবেদন সংক্রান্ত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা আধিকারিকদের এ বিষয়ে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এখনও পর্যন্ত প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদনকারীর শুনানি বাকি রয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সেই শুনানি শেষ করে আবেদনকারীদের নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।তফসিলি জাতিভুক্ত আবেদনকারীদের শংসাপত্র দেওয়ার বিষয়েও আশ্বাস দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, এই প্রক্রিয়ায় কাউকে বাধা দেওয়া হবে না। তবে কারা শংসাপত্র পাওয়ার যোগ্য, তা সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও যাচাইয়ের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।শুধু নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়াই নয়, ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রেও সরকার সাহায্য করবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগামী জানুয়ারিতে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিশেষ অভিযান শুরু হলে সিএএ-র আওতায় শংসাপত্র পাওয়া ব্যক্তিদের নাম তোলার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় নথি তৈরি করতেও সাহায্য করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্বের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঠাকুরনগরে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই ঘোষণার পর এখন নজর থাকবে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শুনানি শেষ করে আবেদনকারীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়ার কাজ কতটা এগোয়।

নভেম্বর ০১, ২০২৬
রাজ্য

মতুয়া-গড়ে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, শান্তনু ঠাকুরের বাড়িতে কী কী পদ দিয়ে সাজল পাত?

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বার মতুয়া-গড়ে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার ঠাকুরবাড়িতে আন্তর্জাতিক গোঁসাই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে মন্দিরে পুজো দেন তিনি। ঘণ্টা বাজিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শান্তনু ঠাকুর এবং তাঁর স্ত্রী তথা বিধায়ক সোমা ঠাকুর। পুজো দেওয়ার পর ঠাকুরনগরে সভা করার কথা শুভেন্দুর। তার পর শান্তনু ঠাকুরের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারবেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর আপ্যায়নের জন্য সকাল থেকেই বাড়িতে চলেছে বিশেষ আয়োজন।শুভেন্দুর জন্য নিজের হাতে রান্না করেছেন শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা। মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজের মেনুতে রয়েছে নানা ধরনের পদ। ভাতের সঙ্গে থাকছে উচ্ছে ভাজা, বেগুন ভাজা, পমফ্রেট মাছ, চিংড়ির মালাইকারি, মটন এবং দেশি মুরগির ঝোল। এ ছাড়াও রয়েছে চিংড়ি দিয়ে মোচা, ইলিশ ভাপা ও ইলিশ ভাজা। তবে এই মেনুর অন্যতম আকর্ষণ ঠাকুরবাড়ির বিশেষ পদ চিংড়ি পিঠে। খাওয়ার শেষে থাকছে দই ও মিষ্টি।মুখ্যমন্ত্রীর আপ্যায়নের জন্য রান্নাঘরে সকাল থেকেই ব্যস্ততা ছিল। সোমা জানিয়েছেন, তিনি নিজের হাতেই রান্না করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম মতুয়া-গড় সফরকে ঘিরে ঠাকুরবাড়িতে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে।মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর ঠাকুরবাড়িতে তিন গোঁসাই ঠাকুরকে বরণ করা হয়। এর পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, আগের মুখ্যমন্ত্রী কোনওদিন মতুয়াদের কথা ভাবেনি। নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা ভাবেননি। মতুয়াদের আশীর্বাদেই আমি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি। আজ এখানে সেবা কার্য করতে এসেছি।জানা গিয়েছে, ঠাকুরবাড়িতে পুজো দেওয়ার পর ঠাকুরনগরে সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পর শান্তনু ঠাকুরের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারবেন তিনি। সব কর্মসূচি শেষ করে বিকেলে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা তাঁর।

নভেম্বর ০১, ২০২৬
কলকাতা

বাংলার ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের হাহাকার! মজুত ১০ হাজারেরও কম, অস্ত্রোপচার পিছনোর আশঙ্কা

রাজ্যজুড়ে রক্তের জোগান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্ক মিলিয়ে এই মুহূর্তে বাংলায় রক্তের মজুত ১০ হাজার ইউনিটেরও কম বলে জানা গিয়েছে। অথচ প্রতিদিন রাজ্যে প্রায় তিন হাজার ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, বর্তমান মজুত দিয়ে আগামী দিনে চাহিদা মেটানো কঠিন হতে পারে। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী, ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা, জটিল অস্ত্রোপচার এবং দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়। এই পরিস্থিতিতে রক্তের জোগান নিয়ে চিন্তায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। শনিবারের হিসাব অনুযায়ী, কলকাতায় রক্তের মজুত ছিল প্রায় ৫৬০ ইউনিট।রক্তের জোগান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর অস্ত্রোপচারের জন্য রক্ত পাওয়া যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। রোগীর পরিবারের অনুরোধে শনিবার রাতে সেখানে যান বরাহনগরের বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর উদ্যোগে সমস্যার সমাধান হয় বলে জানা গিয়েছে। এর পর সজল প্রশ্ন তোলেন, একজন বিধায়ককেই যদি রক্তের জন্য এত সমস্যায় পড়তে হয়, তা হলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হচ্ছে?তবে রাজ্যে রক্তের ঘাটতির কথা মানতে চাননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, কোনও বিরল রক্তের গ্রুপের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তবে সাধারণ ভাবে রক্তের ঘাটতি নেই। ও নেগেটিভ বা এবি নেগেটিভ-এর মতো বিরল গ্রুপের রক্ত পেতে সমস্যা হলে মানিকতলার কেন্দ্রীয় ব্লাড ব্যাঙ্কের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। সেখানে পর্যাপ্ত রক্ত মজুত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।দীর্ঘদিন ধরে রক্তদান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ডি আশিসের মতে, রক্ত পাচার নিয়ে নানা খবর ছড়ানোর কারণে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে রক্তদান নিয়ে অনীহা তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, রক্তদান করেও লাভ নেই, কারণ সেই রক্ত পাচার হয়ে যেতে পারে। তাঁর বক্তব্য, এই ধারণার প্রভাব রক্তদান আন্দোলনের উপর পড়ছে। অন্য দিকে, রক্তের অভাবে কিছু অস্ত্রোপচার পিছিয়ে দিতে হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে সংগৃহীত রক্তের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে বিভিন্ন ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, কলেজ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আয়োজিত রক্তদান শিবির থেকে। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিভিন্ন ক্লাবে নতুন কমিটি গঠন ও দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। ডি আশিসের বক্তব্য, নতুন কমিটিগুলি দায়িত্ব নেওয়ার পর রক্তদান শিবির আয়োজন করতে সময় লাগতে পারে। ফলে এই সময়ে বড় শিবিরের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ব্লাড ডোনর অর্গানাইজেশনের জাতীয় সভাপতি বিশ্বরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, রবিবার একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হবে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আরও বেশি মানুষকে রক্তদানে এগিয়ে আসার আবেদন জানানো হচ্ছে। রক্তের জোগান বাড়াতে সম্প্রতি স্বাস্থ্য দপ্তরও নির্দেশিকা জারি করেছিল। হাসপাতাল সংলগ্ন পুজো কমিটিগুলিকে রক্তদান শিবির আয়োজন করতে উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছিল।এই পরিস্থিতিতে রক্তের মজুত বাড়াতে নিয়মিত রক্তদান শিবির আয়োজন এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে রাজ্যে রক্তের প্রকৃত ঘাটতি কতটা, তা নিয়ে চিকিৎসকদের উদ্বেগ এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

নভেম্বর ০১, ২০২৬
দেশ

হুডখোলা গাড়িতে রাহুল সামনে, মমতা পিছনের সারিতে! বাংলার ভোটে হারের পর বদলে গেল সমীকরণ?

হুডখোলা গাড়ির সামনের সারিতে রাহুল গান্ধী। তাঁর পিছনের সারিতে ফারুক আবদুল্লা ও ডি রাজা। তৃতীয় সারিতে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের পাশে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে এই ছবি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের খারাপ ফলের পর বিরোধী জোটে মমতার অবস্থান বদলেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।একসময় বিভিন্ন আন্দোলনে সামনের সারিতে দেখা যেত মমতাকে। বিরোধী রাজনীতিতেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় তৃণমূলের বড় ধাক্কার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলেছে। রামলীলা ময়দানে যাওয়ার পথে হুডখোলা গাড়িতে রাহুল গান্ধীকে সামনের সারিতে এবং মমতাকে পিছনের দিকে দেখা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ছবি বিরোধী জোটে নেতাদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।ওই গাড়িতে ছিলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ফারুক আবদুল্লা, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে এবং তেজস্বী যাদবও। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দেখা যায়। তবে তিনি ছিলেন পিছনের সারিতে।বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রয়োজনে বাম ও কংগ্রেসের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। যদিও বাংলায় সেই প্রস্তাবে তেমন সাড়া মেলেনি। এর পর দিল্লিতে গিয়ে একাধিক বার রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মমতা। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী জোটে কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি জানিয়ে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সমাবেশকে ঘিরে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রামলীলা ময়দান এলাকায় পুলিশ ও আধাসেনা মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে অন্তত ২০০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-যুক্ত ক্যামেরা।হুডখোলা গাড়িতে কোন নেতা কোথায় ছিলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে। তবে শুধু আসন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিরোধী জোটে কোনও নেতার গুরুত্ব কমেছে বা বেড়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। সমাবেশে নেতাদের বক্তব্য এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর।

নভেম্বর ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal